স্পিন উইকেটে শুরুতেই ব্যাটিং ধস বাংলাদেশের। শূন্য রানে প্রথম উইকেট। স্কোরবোর্ডে দলীয় তিন রান যোগ হতেই একে একে সাজঘরে মাহমুদুল হাসান জয়, পারভেজ ইমন এবং জাকির হোসেন। এরপর আফিফ হোসেন আর অধিনায়ক সাইফ হাসানের লড়াই। হ্যাংঝুর জিয়েজাং ইউভিার্সিটি অব টেকনোলজিতে বুধবার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ সাইফের হাফ সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৬ রান সংগ্রহ করে। রান তাড়া করতে নামা মালয়েশিয়ান ব্যাটসম্যানরা পড়েছেন বাংলাদেশর বোলারদের ঘূর্নি তোপে। তবে ভীরন্দেপ সিং আতংক হয়ে কাজ করেছিলেন পুরোটা সময়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১৪ রান সংগ্রর করে মালয়েশিয়া।
বৃহস্পতিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ক্রিকেট দুনিয়ার সব চোখ ভারতের দিকে। সাকিব আল হাসানদের সঙ্গে বাংলাদেশর ক্রিকেটপ্রেসমীদের চোখ চীনের হ্যাংঝুতে। ২০১০ সালে চীনের আরেকটি শহর গুয়াংজুতে গেমস ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ; যা এশিয়াডে বাংলাদেশের একমাত্র স্বর্ণ। হারানো স্বর্ণ পূনরুদ্ধরের মিশনে বুধবার ল জিয়েজাং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি গ্রাউন্ডে কোযার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ছিল হতাশার।
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর স্পিন উইকেটে মালয়েশিয়ান বোলারদের শুরুর তোপ সামলে আক্রমনাত্নক ব্যাটি করা আফিফ ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ১৪ বলে ২ চার এবং সমান ছয়ে ২৩ রানে সাজঘরে ফিরেন তিনি। আফিফ ফিরে গেলেও অধিনায়ক সাইফ কন্ডিশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং বলের গুণ বিচার করে খেলেন। ৫২ বলে ১ চার এবং ৩ ছয়ে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। এছাড়া শাহাদাত ২১ এবং জাকের আলী অপরাজিত ১৪ রান করেন। মালয়েশিয়ার পাভান্দ্বি সিং নেন ২ উইকেটে।
১১৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা মালয়েশিয়া বিনা উইকেটে ১৩ রান সংগ্রহ করে। জুবাইদিকে আউট করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রো এনে দেন রিপন মন্ডল। ইনিংসের পঞ্চম ওভার করতে আসা আফিফ মালয়েশিয়ার দুই ব্যাটসম্যান আজিম এবং ফায়েজকে আউট করলে ম্যাচের লাগামটাও যেন চলে এসেছিল বাংলাদেশের হাতে। ১৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ওপেনার মোবারক এবং ভীরন্দেপ সিং বাংলাদেশের বোলারদের হতাশায় ডোবাতে থাকেন। দু’জনের ২০ রানের জুটি ভাঙ্গেন রাকিবুল হাসান।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়ান ভীরন্দেপ। পঞ্চম উইকেটে বিজয় উন্নির সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়েন। বিজয়কে আউট করে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান রিপন মন্ডল। প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ খেলতে নামা এ বোলার একই ওভারে ফেরান শারভীন মুনিয়ান্দিকে।
৭২ রানে ৬ উইকেট হারানো মালয়েশিয়াকে শেষ ৩০ বলে ৪৫ রানের সমীকরন মেলাতে গিয়ে সুমন খানের করা ১৬তম ওভার থেকে আসে ১৬ রান। ৪ ওভারে ২৯ রানের প্রয়োজন পড়ে মালয়েশিয়ার। রিশাদ হোসেনের ওভার থেকে মালয়েশিয়া ১৩ রান নিলে বাংলাদেশের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। তবে আফিফ হোসেনের শেষ ওভারে হারা ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। মালয়েশিয়ার ভীরন্দেপ সিং ৫২ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে আফিফ এবং রিপন মন্ডল সমান ৩টি করে উইকেট নেন। এদিন জাকের আলী, মাহমুদুল হাসান জয়, রিপন মন্ডল, রাকিবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন, সুমন খানের টি২০তে অভিষেক হয়েছে।
.png)































-samakal-651d2e4d79748.jpg)
কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন