![]() |
| অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু ও তার বন্ধু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওরফে রুফি। ছবি: সংগৃহীত |
জনপ্রিয় অভিনেত্রী হোমায়রা হিমুকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তার বন্ধু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওরফে রুফি ওরফে উরফি জিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব–১ রাজধানীর বংশাল এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রুফিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, এর আগেও তিন–চারবার আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তাই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি তার বন্ধু। তবে এবার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আত্মহত্যা’ করেন হিমু।
এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রুফির মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন হিমু। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হলে রুফি তাকে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’ দিয়ে বাথরুমে যান। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে হিমু আত্মহত্যা করেন।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হোমায়রা হিমু নামে পরিচিত হুমায়রা নুসরাত হিমু একজন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ছিলেন। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন। ২০১৪ সালে তার খালাতো বোনের সঙ্গে রুফির বিয়ে হয়। কিছুদিন পরই পারিবারিক সমস্যার কারণে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
তিনি বলেন, আত্মীয়তার সূত্র ধরে রুফির সঙ্গে হিমুর পরিচয় হয়। দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। একসময় রুফি আরেক তরুণীকে বিয়ে করলেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। চার মাস আগে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুফি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি নিয়মিত হিমুর বাসায় যেতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হত। গ্রেপ্তার যুবকের দাবি, দুই–তিন বছর ধরে হিমু ‘বিগো লাইভ’ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল অর্থ অপচয় করেন। এ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
‘সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হিমুর উত্তরার বাসায় যান রুফি। অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুজনের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হিমু বাসায় ভাঙচুর করেন। এরপর তিনি একটি মই ঘরে আনেন এবং সিলিং ফ্যানের লোহার হুকের সঙ্গে আগে থেকে বেঁধে রাখা প্লাস্টিকের রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার কথা জানান। তবে তার কথায় রুফি গুরুত্ব দেননি।’
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, রুফির দাবি, কিছুক্ষণ পর হিমু গলায় ফাঁস দিলে রুফি তাকে নামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় তিনি পাশের ঘরে থাকা হিমুর মেকআপ আর্টিস্ট মিহিরকে ডেকে আনেন। মিহির রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে রশি কেটে হিমুর নিথর দেহ নিচে নামান। শেষে বাসার নিরাপত্তাকর্মী ও মিহিরের সহায়তায় হিমুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হিমুকে মৃত ঘোষণার পর তার দুটি আইফোন ও ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন রুফি। তিনি গাড়িটি হিমুর উত্তরার বাসার পার্কিংয়ে রেখে মোবাইল ফোন বিক্রির উদ্দেশ্যে বংশাল এলাকায় যান। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করা রুফি পেশায় টেক্সটাইল ক্যামিকেলের ব্যবসায়ী।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার জ্যোতির্ময় সাহা সমকালকে বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিগো লাইভ নামে একটি অ্যাপে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে হিমুর বাকবিতণ্ডা হয়। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে মৃত্যুর কারণ।
.png)
































কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন