চট্টগ্রামে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ কিশোরের মৃত্যু

মোহাম্মদ নুর হোসেন
প্রকাশঃ শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপি’র কর্মসূচিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় জাহেদ হোসেন রুমন (১৬) নামে এক কিশোর প্রাণ  হারায়। সংঘর্ষে জড়ানো উভয়পক্ষই নিহত কিশোরকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করছেন। এই ঘটনায় ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিরসরাইয়ের ওসমানপুরের আজমপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জাহেদ হোসেন রুমন স্থানীয় মৃত নুর  জামানের পুত্র। তিনি একটা পানি সাপ্লাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী ৪ঠা অক্টোবর বিএনপি’র কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ উপলক্ষে মীরসরাইয়ের ওসমানপুরে একটি পথসভা করার কর্মসূচির আয়োজন করে উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে হামলা করে। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এতে জাহেদ হোসেন রুমন নিহত ও  উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হন। এদিকে  নিহত রুমনকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই নিজেদের  কর্মী বলে দাবি করছে। আর এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। এরমধ্যে নিহত রুমনের মরদেহ থানায় নেয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে রাত ৮টায় বিএনপি’র নেতা  নুরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। অন্যদিকে, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর চালায়। মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বলেন, ‘বিএনপি নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলায় আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও পাঁচজন। তারা এ সময় আজমপুর বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও হামলা চালায়।’

মিরসরাই উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুল ইসলাম স্বপন দাবি করেন, আমরা লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি সভা করছিলাম। এসময় হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে ছাত্রদলের এক কর্মী নিহত হয়েছে। আর ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এখন তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৫-৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে  জাহেদ হোসেন রুমন নিহতের ঘটনায় তার মা  খালেদা আক্তার বাদী হয়ে  জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৬০-৭০ জনকে।সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে আটক বিএনপি’র ৪ কর্মীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।  চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত রুমনের মা খালেদা আক্তার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০-৭০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন