মিরসরাইয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব- সংঘাতে উত্তাল রাজপথ

মোহাম্মদ নুর হোসেন
প্রকাশঃ শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন, আর নির্বাচন কে ঘিরে সরগরম রাজনীতির মাঠ। বাড়ছে মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশসহ নানান কর্মসূচি। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে পূর্বের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভিন্ন পথে হাঠছে মিরসরাইয়ের রাজনৈতিক রাজপথ। বেড়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী। আর এরসাথে বেড়েছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরসরাইয়ের রাজনীতির রাজপথ।

সম্প্রতি সময়ে কয়েকটি ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে বেড়েছে আতংক, জন্ম দিয়েছে নানান প্রশ্নও। তবে কি মিরসরাইয়ের শান্ত পরিবেশ অশান্তের দিকে যাচ্ছে?

গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের সুফিয়া রোডস্থ নুরজাহান কমিউনিটি সেন্টারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী গিয়াস উদ্দিনের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জন্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন গিয়াস উদ্দিন।

এসময় তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাসুদ করিম রানা এবং ৯নং ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম দিদারের নেতৃত্বে আমার শান্তিপূর্ণ সমাবেশে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের মুল ফটকের বাইরে তালা দিয়ে ভিতরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বের হওয়ার পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় মহিলা কর্মীসহ নেতা কর্মীরা সবাই হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ১৫ নেতা কর্মীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরত্বর।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শামসুল আলম দিদার বলেন, আগামী ৬ অক্টোবর মিরসরাইতে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে। গিয়াস উদ্দিনকে অনুরোধ করতে চাই যেন আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত অন্যকোনো সভা সমাবেশ না করে। তখন তার কিছু অনুসারী উত্তেজিত হয়ে আমাদের উপর হামলা করে। আমরা কারো উপর হামলা করি নাই।

অন্যদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার আজমপুর বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জাহিদ হোসেন রুমন (১৬) নামে একজন নিহত হয়। তাকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করছে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ করিম রানা। আবার বিএনপি দাবি করছে নিহত রুমন বিএনপির কর্মী। এতে তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত রয়েছে।

বিএনপির দাবি, আগামী ৫ অক্টোবর বিএনপির ১৫ দিনের কর্মসূচির মধ্যে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ উপলক্ষ্যে মিরসরাইয়ে একটি পথসভা করার কথা রয়েছে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়ন এলাকায় একটি সভার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এতে তাদের ১৫ নেতাকর্মী আহত হওয়ারও দাবি বিএনপির।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় ওচমানপুর ইউনিয়ন এলাকার আজমপুর বাজারে বিএনপির লোকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ওচমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, মিরাজ, আরেফিন ও রাফিসহ ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

এরআগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জ থানার বিএসআরএম গেটে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বাধাগ্রস্ত করা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে বারইয়ারহাট শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, গত এক সাপ্তাহের এমন বড় দুই ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে পুরো উপজেলা জুড়ে। স্থানীয় জনগণের দাবি তাদের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বলি যাতে সাধারণ জনগণ না হয় এ বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন জানান, শুক্রবার ঘটনাটি একটি বিশৃঙ্খল ঘটনা। সাধারণ মানুষ আতংকিত হওয়ার কারণ নেই। বর্তমানে পুরো এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আর যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সর্বাত্বক ভূমিকা রাখবে।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন জানান, দু’একটা বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটবে। বর্তমানে পুরো উপজেলা নিয়ন্ত্রণে আছে। আর বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।


কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন